মেনু নির্বাচন করুন

ফরিদপুর জেলার বিখ্যাত ব্যকিত্ত্ব

ফরিদপুরের বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গ গণ-

পল্লী কবি জসীমউদ্দীন

পল্লী কবি জসীমউদ্দীন ১৯০৪ সালের ১ জানুয়ারী ফরিদপুরে জন্মগ্রহণ করেন । তিনি ফরিদপুর জিলা স্কুল থেকে ম্যাটিকুলেশন পাশ করেন , ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজ থেকে আই এবং বি এ,  কলিকাতা থেকে ১৯৩১ সালে এম.এ পাশ করেন। ১৯৩৩ সালে কলিকাতা রামতনু লাহিড়ী কলেজে সহকারী গবেষক পদে যোগদানের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে চাকুরী শেষে ১৯৬১ সালে চাকুরী থেকে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি সর্বমোট ৪৫ টি গ্রন্থ রচনা করেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য  গ্রহন্থাবলী হচ্ছে- রাখালী, নক্সী কাঁথার মাঠ, সোজন বাদিয়ার ঘাট, রঙিলা নায়ের মাঝি, হাসু, এক পয়সার বাঁশী, পদ্মাপার, মাটির কান্না, বেদের মেয়ে ইত্যাদি। কবি জসীমউদ্দীন ফরিদপুরের তথা বাংলা ও বাঙালিদের কবি। তিনিই আমাদের পল্লী বাংলাকে তার কবিতা ও গানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন সাহিত্যিক কবি জসীমউদ্দীন আমাদের আইডেনটিটি। তাঁকে নিয়ে দেশে এখন প্রচুর গবেষণামূলক কর্মকান্ড চলছে। জসীমউদ্দীন আমাদের গর্ব। এই মহান কবি ১৯৭৬ সালের ১৪ মার্চ মৃত্যুবরণ করেন। 

হাজী শরীয়তুল্লাহ

হাজী শরীয়তুল্লাহ ছিলেন বিখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ ও সংস্কারক। তিনি বৃহত্তর ফরিদপুর জেলার তৎকালীন মাদারীপুর মহকুমার শ্যামাইল গ্রামে ১৭৮১ সালে জম্ম গ্রহণ করেন। তিনি বঙ্গদেশে ফরায়েজী আন্দোলন এর প্রবর্তক ছিলেন । তিনি ওহাবী মতে দীক্ষিত হয়ে ফরায়েজী জামাত সৃষ্টি করে আন্দোলন শুরু করেন যা ফরায়েজী আন্দোলন নামে পরিচিতি লাভ করে । হাজী শরীয়ত উল্লাহর পুত্র মহসীন উদ্দিন আহমেদ ইতিহাসে পীর দুদু মিয়া নামেই সমধিক প্রসিদ্ধ । হাজী শরীয়ত উল্লাহ ১৮৪০ সালে  মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র পীর দুদু মিয়া ফরায়েজী আন্দোলন এর নেতৃত্ব গ্রহণ করেন । 

আম্বিকাচরণ মজুমদার

আম্বিকাচরণ মজুমদার ১৮৫১ সালে ৬ জানুয়ারী বৃহত্তর ফরিদপুর জেলায় জম্মগ্রহণ করেন । তিনি ১৮৫৭ সালে জেনালের এসেম্বলিজ ইন্সিষ্টিটিউট থেকে ইংরেজী সাহিত্যে এম.এ. পাশ করেন । পরে বি এল পাশ করে ফরিদপুর বারে আইন ব্যবসায় যোগদান করেন। কংগ্রেসের রাজনীতিতে তিনি ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। আম্বিকাচরণ মজুমদারের সভাপতিত্বে ফরিদপুরে ১৯০৫ সালের জানুয়ালী মাসে বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। আম্বিকাচরণ মজুমদারের নেতৃত্বে ফরিদপুরের উকিল ও মোক্তারগণ স্বদেশী আন্দোলনে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করেন। জেলার রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকান্ডে তিনি গুরুত্বপূর্ণ  ভূমিকা পালন করেন । আম্বিকাচরণ মজুমদারই হচ্ছেন রাজেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের প্রতিষ্ঠাতা এবং তিনি কংগ্রেসের ৩১ তম সভাপতি ছিলেন । ১৯২২ সালের ২৯ ডিসেম্বর কংগ্রেসের এই প্রখ্যাত নেতা মৃত্যুবরণ করেন। 

বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আবদুর  রউফ

বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আবদুর  রউফের জন্ম ১৯৪৩ সালের  মে মাসে ফরিদপুর জেলার মধুখালী থানার কামারখালী ইউনিয়নের ছালামতপুর গ্রামে । পিতার নাম মুন্সী মেহেদী হাসান । মধুমতির তীরে অবস্থিত ছালামতপুর গ্রামের এই ছেলেটি ১৯৬৩ সালে ইষ্ট পাকিস্তান রাইফেলসে সৈনিক পদে যোগদান করেন। ১৯৭১ সালের ২০ এপ্রিল তিনি সম্মুখে যুদ্ধে শাহদাত বরণ করেন । বাংলাদেশ সরকার তাঁকে বীরশ্রেষ্ঠ উপাধিতে ভূষিত করেছে । 

 

Share with :

Facebook Twitter