মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

একটি বাড়ী একটি খামার

 

গ্রামীন অর্থনীতিতে নারীগোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা এবং ’একটি বাড়ী একটি খামার’প্রকল্প

বিশ্বায়ন ও নগরায়নের এই যুগেও  বাংলাদেশের শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ মানুষ গ্রামে বাস করে। এ দেশের জাতীয় ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন কৃষি উন্নয়নের উপর এখনো বহুলাংশে নির্ভরশীল। যদিও অনেকে মনে করছেন দেশের বিশাল শ্রমশক্তির কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে এখন থেকে অধিক হারে শিল্পে বিনিয়োগ যুক্তিসঙ্গত হবে।  তারপরও আমাদের অর্থনৈতিক বাস্তবতায় গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সার্বিক উন্নয়নে সরকারকে মনযোগী হবে হবে, অর্থাৎ গ্রামীণ অর্থনীতির ভিত্তি, কৃষির সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সম্ভাব্য লাগসই প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও তার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা আজ জরুরী হয়ে পড়েছে।

এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত সাপেক্ষে, সরকার-গৃহীত ‘একটি বাড়ী একটি খামার’ কর্মসূচী সফল করার মাধ্যমে সাফল্য আসতে পারে। আর সেই সফল্য অর্জনে গ্রামীণ নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। প্রাচীনকাল থেকেই এদেশের গ্রামীণ নারীরা প্রায় প্রত্যেক বাড়ীর উঠানে হাঁস-মুরগী ও কবুতর পালনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। এদের খাদ্য সংগ্রহ, সরবরাহ ও সেবা-যত্ন নারীরাই করে থাকেন। এদের মাংস ও ডিম আমদের প্রাণীজ প্রোটিন সরবরাহ করে। গবাদিপশুর (গরু, ছাগল, ভেড়া) খাদ্য সংগ্রহ, সরবরাহ ও তাদের পরিচর্যার মাধ্যমে গবাদিপশু পালন ও দুধ উৎপাদনেও নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। কিন্তু এদেশে হাঁস-মুরগি প্রতিপালন নিতান্তই সনাতন পদ্ধতির এবং পালিত হাঁস-মুরগিও দেশী এবং অনুন্নত জাতের। বাংলাদেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর প্রোটিনের অভাব দূরীকরণে গ্রামীণ নারীরা তাদের বসতবাড়ীতে আধুনিক পদ্ধতিতে উন্নতজাতের হাঁস-মুরগি পালন করতে পারেন। এছাড়া গ্রামীণ নারীরা বাড়ীর আঙ্গিনায় ডোবা ও গর্ত জাতীয় ক্ষুদ্র জলাশয়ে মাছ চাষ করতে পারেন। এর ফলে একদিকে যেমন দেশে প্রোটিন জাতীয় খাদ্যের ঘাটতি অনেকটা পূরণ হবে, অপরদিকে বাড়তি অংশ বিক্রি করে পরিবারের কিছু বাড়তি আয়ের সংস্থান হবে।

শিশু, গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের জন্য ভিটামিন ও খনিজ লবণের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। শাক-সবজি ও ফলমূল ভিটামিন ও খনিজ লবণের উৎকৃষ্ট উৎস। শাক-সবজী ও ফলমূলে সব ধরনের পুষ্টি উপাদান রয়েছে। তবে ভিটামিন ও খনিজ লবণের পরিমাণ বেশী থাকে। আমাদের দেহের এ গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান দু’টির চাহিদার প্রায় সবটুকুই শাক-সবজী ও ফলমূল থেকে পূরণ হয়ে থাকে। সুতরাং ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর শাক-সবজী ও ফলের চাহিদা পূরণের জন্য বসতবাড়ীর খামারে বেশী করে শাক-সবজী ও ফলের চাষ করা একান্ত প্রয়োজন।

বসতবাড়ীর খামারে সুপরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন প্রকার শাক-সবজী ও ফলমূল উৎপাদনের ক্ষেত্রে নারীরা সক্রিয় অবদান রাখতে পারেন। বসতবাড়ীর বাগানে সবজী ও ফল চাষের আরেকটি সুন্দর দিকও রয়েছে। এ ধরনের বাগানে বাড়ীর ছোট ছেলে-মেয়েরাও অংশ নিতে পারে। এর ফলে তাদের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই খামার করার অভ্যাস গড়ে ওঠার পাশাপাশি নিয়মিত শাক-সবজী আর ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে উঠবে। 

সরকার ’একটি বাড়ী একটি খামার’ কর্মসূচীকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে সার্বিক সহযোগিতা প্রদানে বদ্ধপরিকর। এ আন্দোলনে সবারই অংশগ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন। একই সাথে এই প্রকল্পটি যাতে একটি গতানুগতিক বুলি সর্বস্ব রাজনৈতিক প্রকল্পে পরিণত না হয়, সে দিকটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের।