মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

ঐতিহ্য গোপালপুর

 

ঐতিহ্যে গোপালপুর:

 

প্রায় ২৫০ বছর আগের কথা। নবাব মীর কাশিম বাংলা,বিহার,উড়িষ্যার স্বাধীনতা রক্ষার জন্য সাম্রাজ্যবাদী ইংরেজদের বিরুদ্ধে এক আমরন সংগ্রামে লিপ্ত হয়। নবাব মীর কাশিমের অধিকাংশ সদস্যই খান পাঠান। তারা অনেকেই এসেছিল ভারত বর্ষের সমরখন্দ,বোখরা থেকে,এক কথায় খাইবার গিরিপথ দিয়ে। ঠিক এরকম পরিবার পরিজন নিয়ে দল বেঁধে এসেছিল গজনীর পাশে ‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍উৎলা থেকে। এদের অধিকাংশই মীর কাশিমের সেনা বাহিনীতে যোগদান করেছিল।

 

ইংরেজদের বিরুদ্ধে শেষ যুদ্ধে নবাব মীর কাশিম পরাজিত হয় এবং তার সেনাবাহিনীর বহু সৈন্য নিহত হয়। কিছু হয় আহত,সেই আহতরা হয় বন্দী। পরবর্তীতে তারা পায় মৃত্যুদন্ড।যারা জীবিত ছিল তারা হয়ে যায় ছত্রভঙ্গ। ঠিক এই সময়ে ‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍উৎলা থেকে আগত খান পাঠানদের মধ্যে জীবিত ৮১টি পরিবার পালিয়ে এসে মধুমতি নদী পার হয়ে আলফাডাঙ্গার খড়কদিয়া নামক বনাঞ্চলে আত্মগোপন করে। ধীরে ধীরে গড়ে তোলে বসতি এবং বন্দর। ইংরেজরা তখন শহর বন্দর ছাড়াও ক্রমান্বয়ে গ্রাম বন্দর গ্রাস করে চলেছিল। গ্রামগঞ্জে গড়ে তুলেছিল একের পর এক নীলকুঠি বা দূর্গ। নীলকুঠির শেতাঙ্গবাসীদের অত্যাচারে তখন গ্রাম বাংলায় এক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। কুঠিয়ালদের অত্যাচার যখন চরমে তখন খড়কদিয়া গ্রামবাসীরা পাঠানদের নেতৃত্বে স্থানীয় জনসাধারনের সহায়তায় গড়ে তোলে দুর্বার প্রতিরোধ। এই প্রতিরোধের নেতৃত্ব দেন তদানীন্তন পাঠানদের অবিসংবাদিত নেতা গোপাল খাঁ।

 

অভিযানের ফলশ্রুতিতে ধ্বংস হয় বেশ কিছু কুঠিবাড়ি,তাদের মধ্যে বাজড়া,ফলিয়ার সন্নিকটে,মীরগঞ্জ, ধানজাইল, দেউলি, পিঙ্গুলিয়া, সহস্রাইল, কাটাগড়, বোয়ালমারী, শেখর, ময়না, মধুখালী, কামারখালী, মোহাম্মদপুর কুঠিবাড়ী অন্যতম। অভিযান যখন আরো দুর্বার হয়ে ওঠে তখন যশোহরস্থিত ইংরেজ প্রশাসন ভীতসন্ত্রস্ত্র হয়ে আপোষ রফা করেন স্বাধীনচেতা পাঠানদের অবিসংবাদিত নেতা গোপাল খানের সঙ্গে। গোপাল খানের প্রতি সম্মান স্বরূপ খড়কদিয়া মৌজার এক অংশের নাম গোপালপুর রাখা হয়।

 

বিচিত্র বৈভবের ঐতিহ্যেবাহী যশোহর জেলার বর্তমান ফরিদপুর জেলার এই আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর গ্রাম। সংগ্রাম ও স্বাধীনতার ঐতিহ্যে ভাস্কর গোপালপুর স্বীয় অহংকারকে আঁকড়ে ধরে আবহমানকাল হতে দাঁড়িয়ে আছে স্বগৌরবে। স্থানীয় লোকদের প্রতিরোধের মুখে ইংরেজ শোষকরা তাদের বিষধর নখের থাবা প্রথম প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছিল। ১৯৭১ সালে পাক বাহিনীও প্রতিরোধের মুখে ফিরে গিয়েছিল।

 

দেশের ভবিষ্যৎ যে কোন সংগ্রাম ও দুর্যোগের ডাকের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। গোপালপুরের খাঁ, পাঠান,শেখ,সৈয়দদের সমন্বয়ে পাঁচ হাজার লোকঅধ্যুষিত গোপালপুরের বিভিন্ন পেশার লোকজন। স্বাধানতা সংগ্রামে বিশেষ ও সুস্পষ্ট অবদান রেখেছে এই গোপালপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধাগন। ১৯০ বছর ইংরেজ শাসন এবং ভারত বর্ষের উনবিংশ শতাব্দির প্রথমাংশে মুসলিম পূর্নজাগরন যার ফলশ্রুতিতে পাকিস্তান সৃষ্টি সেই সংগ্রামেও গোপালপুর এক বলিষ্ঠ অবদান রেখেছিল। সেটা আজও অনেকের স্মৃতিতে ভাস্বর। আর বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম সেখানেও আলফাডাঙ্গা,বোয়ালমারী,বালিয়াকান্দি,মধুখালি,কাশিয়ানী ও লোহগড়া থানার মধ্যে সর্বপ্রথম এই গোপালপুর সুপরিকল্পিত সুশৃঙ্খল ও নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হানাদার পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে দুর্বার ও দুর্জয় মুক্তিসেনার দল গড়ে তুলেছিল। এ জন্য শহীদ জাফর ছাড়াও অনেকের প্রাণ দিতে হয়। ১১৪টি বাড়ী সম্পূর্ণ ভষ্মীভূত হয় পাক বাহিনী কর্তৃক।

ছবি



Share with :

Facebook Twitter